
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে পদোন্নতি, কথিত প্রভাববলয়, নিয়োগ-বদলি এবং সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে। রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকার একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বাস্তব অবস্থা, অকুপেন্সি সনদ এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একদিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনা নজরুল ইসলামের প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়োগ, পদায়ন, সরকারি আবাসন বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, নিয়োগ ও পদোন্নতির আদেশ কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই তা প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ পান এবং একদিনে চারটি পদোন্নতির মাধ্যমে সচিব হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে একদিনে চারটি পদোন্নতি পাওয়ার দাবিটি সরকারি আদেশ দিয়ে যাচাই করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতি আদেশ, প্রজ্ঞাপন, চাকরির জ্যেষ্ঠতা তালিকা, পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করা হতো। এসব সংগঠনের নিবন্ধন, কার্যক্রম এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্যও যাচাইয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্র রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি বহুতল ভবন। অভিযোগকারীদের দাবি, ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ভবনটির নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে সেখানে বসবাস শুরু এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রথমেই ভবনটির প্রকৃত মালিকানা, জমির দলিল, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন এবং রাজউকের পরিদর্শন প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবনটির জন্য অকুপেন্সি সনদ ইস্যু করা হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কখন এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
ভবনটির বাস্তব নির্মাণ অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়ে আগেও রাজউকের অভিযান হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ২০২২ সালে অভিযান চালিয়ে ভবনটির কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয়। তবে অভিযান-পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজের প্রকৃত অবস্থা কী ছিল, কোনো নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না এবং বর্তমানে প্রয়োজনীয় সনদ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এ ক্ষেত্রে ২০২২ সালের অভিযান প্রতিবেদন, ভাঙার নির্দেশ, মুচলেকার কপি, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির অনুমোদিত নকশা প্রকাশের দাবি উঠেছে। এসব নথি যাচাই করা হলে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
তুষারধারার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা এপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা ও নির্মাণসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকার মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে দুদকের অভিযোগের নথি, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত, জরিমানা বা মুচলেকার কপি এবং রাজউকের অনুমোদিত নকশা যাচাই ছাড়া এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভবনটির পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গায় কোনো পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তা অনুমোদিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্ল্যাট বিক্রির পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে ফ্ল্যাটের নিবন্ধিত দলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের নথি এবং অনুমোদিত নকশার বিভিন্ন সংস্করণ তুলনা করে দেখা প্রয়োজন।
নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়োগ, পদায়ন ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যদিও তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ এবং নিয়োগপত্র যাচাই ছাড়া এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনের জন্যও সুবিধাজনক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরির ধরন, পদ, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা বরাদ্দপত্র ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগপত্র, পদ সৃষ্টির অনুমোদন, পদোন্নতির আদেশ, বদলি ও পদায়নের নথি এবং সরকারি আবাসন বরাদ্দের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীরা রফিক, তোফায়েল, মুমিন, হাবিব, কাজী মামনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারও কারও নামে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে ফ্ল্যাট, প্লট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মুমিনের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ লাভে অনিয়ম এবং অল্প সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা প্রয়োজন।
কাজী মামনের বিরুদ্ধেও একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিকানা, প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন কাজে তদবির করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনার আগে সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয় এবং নথিভুক্ত আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নাম উল্লেখ করেছেন।
তাঁদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি সম্পদ অর্জন, ভবন নির্মাণ বা প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, নিবন্ধন, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম অভিযোগে আসার ভিত্তিতে সেটিকে অবৈধ বা অপরাধে জড়িত বলা যায় না।
অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়ে নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
প্রথমত, নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত সব আদেশ, প্রজ্ঞাপন, জ্যেষ্ঠতা তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ যাচাই করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তুষারধারার আলোচিত ভবনগুলোর জমির দলিল, অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদের অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে।
তৃতীয়ত, ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারের ২০২২ সালের অভিযান এবং মিশন সাগরিকা এপার্টমেন্ট নিয়ে রাজউক ও দুদকে করা অভিযোগের নথি পর্যালোচনা করা জরুরি। চতুর্থত, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি-পদায়ন ও সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
পঞ্চমত, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের উৎস নিয়ে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আয়কর নথি, জমির দলিল, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে।
সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পদোন্নতির প্রশাসনিক ভিত্তি, আলোচিত ভবনগুলোর অনুমোদন ও সনদের অবস্থা এবং নিয়োগ-পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাজউক, দুদক ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নজরুল ইসলাম এবং অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা জরুরি। তাঁদের ব্যাখ্যা, প্রাসঙ্গিক নথি কিংবা অভিযোগের প্রতিবাদ থাকলে সেগুলোও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের কাছে অভিযোগকারীদের প্রত্যাশা, তুষারধারার আলোচিত ভবনগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি, সরকারি আবাসন বরাদ্দ এবং সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার অনুযায়ী পরীক্ষা করা হবে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি কিংবা সম্পদের মালিকানা নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনো অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে তা স্পষ্টভাবে জানানোই হবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর পথ। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং সরকারি নথি ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র কতটা স্পষ্ট হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা