
বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় পরিচয়পত্রের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই চক্রের মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকারও বেশি অবৈধ আয় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. হাবীবুল্লাহ ও মো. আলামিন। তাদের দুজনেরই বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। তারা দুজনই নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা এই অপরাধকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি বিশেষ ইউনিট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার প্রথমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন অফিসে অভিযান চালিয়ে মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তদন্তে সহযোগিতা করেন।
আলামিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই রাতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরেক সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেগুলো ব্যবহার করে তারা তথ্য পাচার ও লেনদেন করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, মো. হাবীবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছিলেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে বদলি হন। সেখানে তিনি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে মো. আলামিন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তার দায়িত্ব ছিল জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি ও হালনাগাদ করা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয় নম্বরসহ স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করতেন।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন দালাল, অনলাইন প্রতারক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অপরাধীদের কাছে বিক্রি করছিল। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া সিম নিবন্ধন, অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি করে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা প্রতিটি তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিত এবং বড় অর্ডারে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হতো। এভাবেই মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্র। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের শনাক্তে অভিযান চলমান রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা