ডেঙ্গু ,নরসিংদী ডেস্কঃ নরসিংদীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে পৌর শহর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকায় জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। ধারণক্ষমতার ৩ গুণ বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, মোট ভর্তির রুগী ২৯৩ জন। ধারণ ক্ষমতা তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে, ওয়ার্ডগুলোতে কোনো সিট খালি নেই। জায়গা না থাকায় ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে যে পরিমাণ নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত শয্যা ও জনবল হাসপাতালে নেই।
নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর শনিবার নরসিংদীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে ১০৯ জন। এর মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ২৬ জন, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
একদিকে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, অন্যদিকে চিকিৎসক ও নার্সদের তীব্র সংকট সব মিলিয়ে জেলার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরিতে রক্তের প্লাটিলেট ও সিবিসি টেস্ট করাতে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। ল্যাব কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকায় পরীক্ষার রিপোর্ট পেতেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
রায়পুরা উপজেলার আমিরগন্জ গ্রামের সোহেল নামে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী জানান, তিনি জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনদিন হলো। শরীরে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে আসেন। এসময় ডাক্তার তাকে দেখে পরীক্ষা দেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রাখেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সকল প্রকার পরীক্ষা ও ঔষধ হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে পাচ্ছেন বলে জানান।
নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ল্যাব টেকনেশিয়ান শাহ আলম মিয়া বলেন, আগে যেখানে দৈনিক ৫০/৬০ জন রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০/১৬০জন রোগীর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ রোগীর মাঝে ডেঙ্গুর নমুনা পাওয়া যাচ্ছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, শয্যা সংকটের কারণে আমরা চাইলেও যেসব ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি দরকার, দিতে পারছি না। সে ক্ষেত্রে যাদেরকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব তাদের স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ঔষুধ দিয়ে দিচ্ছি এবং আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এছাড়াও রোগীর পরিবারের সদস্যদের বলে দেয়া হচ্ছে যাতে রোগীর শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে জানায়।
নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, যে হারে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে চলছে এভাবে চলতে থাকলে সামনে ডেঙ্গুর ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া হাসপাতালে আসা রোগীদের ৩০/৪০ ভাগ রোগী ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। তবে এখনো হটস্পট হয়ে উঠেনি, তবে ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. মোঃ বুলবুল কবীর জানান, জেলায় ডেঙ্গুর কিট পর্যন্ত রয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর অবস্থা আগের থেকে উন্নত। গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্ত্রের সংখ্যা। তবে আবার বাড়তেও পারে। এ জন্য আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আমাদের চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।
ডেঙ্গু মোকাবেলায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলা করার শুধু সরকারের একার কাজ নয়, জনসচেতনতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেককে তার বাড়ির নিজ নিজ আঙ্গিনা, ছাদ, বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা