বিনোদন ডেস্ক : অবশেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বম্বে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে তার ভূমিকার জন্য তিনি একটি ‘শর্তহীন ক্ষমা’ প্রার্থনা করবেন।
শুনানি চলাকালীন আদালত বেশ কঠোর মন্তব্য করেছে। খান একজন মার্কিন নাগরিক, তার কাছে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ড রয়েছে।হাইকোর্টের বেঞ্চ জানায়, এই ধরনের কার্ডধারীরা ‘দেশের মর্জির ওপর নির্ভরশীল’ এবং তারা ভারতীয় নাগরিকদের মতো অধিকার দাবি করতে পারেন না।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত ইমরান খানকে একটি লিখিত মুচলেকা দিতে বলেছে, যেখানে তাকে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলন থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া’ (ভারত ছাড়ার) নোটিশটি ৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে তরুণদের নেতৃত্বে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ এই বলিউড অভিনেতাকে কিছুক্ষণের জন্য আটক করে। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন।
এরপর বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি যুক্তি দেন, একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে খান অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করে এবং ১৪ অক্টোবর এফআরআরও ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’-এর অধীনে খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
পাশাপাশি এফআরআরও একটি পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করে। এতে জানতে চাওয়া হয়, কেন ‘নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫’-এর ৭ডি(ই) ধারার অধীনে খান-এর ওসিআই নিবন্ধন বাতিল করা হবে না। এই ধারায় জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনস্বার্থের মতো কারণ দেখিয়ে সরকার কারো ওসিআই মর্যাদা বাতিল করতে পারে।
এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইমরান খান। তিনি এই নোটিশকে স্বেচ্ছাচারী, অসাংবিধানিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা