১৫–১৬টি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেই: গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কায়কোবাদকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্য ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজের বিনিময়ে অর্থ আদায়, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে ১৫–১৬টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। কিন্তু এতগুলো সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পরও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের কাজের মান, ঠিকাদারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেন কার্যকর অনুসন্ধানের অগ্রগতি জনসমক্ষে আসছে না ? অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন ? আর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ কোথায় ?
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ: ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায়ের দাবি : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের দাবি, অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কায়কোবাদ ঠিকাদারি কাজের বিপরীতে কমিশন আদায়ের একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। দপ্তরের ভেতরে তাকে ‘ক্যাশিয়ার’ নামে ডাকা হয় বলেও কয়েকজন দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ শামীম আখতার এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের সময়েও কায়কোবাদ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো।
অভিযোগকারীদের দাবি, একটি সার্কেলের বার্ষিক কাজের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে এ ধরনের কমিশন থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে কোন প্রকল্পে, কার কাছ থেকে এবং কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট লেনদেনের নথি কিংবা চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কার্যাদেশ, ঠিকাদারি চুক্তি, বিল অনুমোদনের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাজ না করেই শতভাগ বিল উত্তোলনের অভিযোগ :
কায়কোবাদের অধীন বিভিন্ন সার্কেলের প্রকল্পে বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের সামঞ্জস্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে; কোথাও কোথাও বাস্তবে কাজ না করেও শতভাগ বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের নামও এসেছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। এখানে মূল প্রশ্ন শুধু বিল উত্তোলনের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে, কে কাজ পরিমাপ করেছেন, কে বিল প্রত্যয়ন করেছেন, কার অনুমোদনে অর্থ ছাড় হয়েছে এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কী ভূমিকা পালন করেছেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কাজের পরিমাণ ও মান যাচাই না করে বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, পরিদর্শন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ ও অর্থ পরিশোধের রেকর্ড পরীক্ষা করতে হবে।
রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে ৪০ কাঠা জমির অভিযোগ : কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ইকবাল রোডের ‘এ’ ব্লকে ‘আমেনাস ড্রিম’ ভবনে আনুমানিক সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরায় দুটি, ধানমন্ডিতে একটি এবং বনানীতে দুটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়েছেন তারা। সম্পদের তালিকায় পূর্বাচলের আমুলিয়া প্রজেক্টে ৪০ কাঠা জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ১০ তলা ভবন এবং কায়কোবাদের নিজ জেলা শেরপুরে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাদের আরও অভিযোগ, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নাম ব্যবহার করে সম্পদ রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবু অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা, ক্রয়ের সময়কাল, অর্থের উৎস এবং সরকারি চাকরিতে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের ভিত্তি হতে পারে।
চালকের নামে গাড়ি, প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন :
কায়কোবাদের পরিবারের ব্যবহারের জন্য নতুন মডেলের একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি থাকার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তাদের দাবি, গাড়িটি আলআমিন নামের এক চালকের নামে নিবন্ধিত। তাই গাড়িটিকে তার নিজস্ব সম্পদ হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধন নথি এবং প্রাসঙ্গিক আর্থিক তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
যদি অন্যের নামে সম্পদ রেখে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন ও মালিকানা সম্পর্কও অনুসন্ধানের আওতায় আনা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
কায়কোবাদের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই-এম) হিসেবে গণপূর্তের ই-এম প্ল্যানিং সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম ই-এম সার্কেলে দায়িত্ব পালন করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ই-এম সার্কেল-২-এর দায়িত্ব পান।
কয়েকজন সহকর্মীর অভিযোগ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে কায়কোবাদ বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান চলার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কায়কোবাদের সম্পদ ও আয়ের উৎসও একইভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না।
১৫–১৬টি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন, তবু মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন :
কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ১৫–১৬টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। কিন্তু এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পরও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানেই জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের বিল উত্তোলনে অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদের অভিযোগ বারবার প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে ? অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কী ? সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথি পরীক্ষা করা হয়েছে কি না ? কায়কোবাদ ও তার পরিবারের নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের উৎস যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না ? মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ? এসব প্রশ্নের জবাব জনসমক্ষে না আসায় প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ প্রতিবেদনে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে। সরকারি অর্থের ব্যবহার ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণও জরুরি।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে যেসব প্রশ্ন : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, কায়কোবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা।
দ্বিতীয়ত, তার অধীন বিভিন্ন সার্কেলের প্রকল্পের কাজ, কাজের পরিমাপ, বিল প্রত্যয়ন, বিল অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা। তৃতীয়ত, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা।
চতুর্থত, অভিযোগে উল্লিখিত ফ্ল্যাট, জমি, ভবন ও গাড়ির মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া। পঞ্চমত, অভিযোগে নাম আসা কায়কোবাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাস এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা। ষষ্ঠত, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জানানো।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি :
প্রতিবেদন তৈরির সময় গত ৪ ও ৫ অক্টোবর মো. কায়কোবাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠিয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শেষ কথা : অভিযোগের নিষ্পত্তি চাই, নীরবতা নয়
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের অর্থ, ঠিকাদারি কাজ, বিল অনুমোদন ও তদারকির সঙ্গে জড়িত অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ামাত্র কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রয়োজন হলো নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, নথিভিত্তিক যাচাই এবং ফলাফলের স্বচ্ছ প্রকাশ। কায়কোবাদের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের বিল উত্তোলনে অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদের যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটি বিষয় পৃথকভাবে যাচাই করা দরকার। ১৫–১৬টি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে জনস্বার্থে প্রত্যাশা—অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থানও পরিষ্কার করতে হবে। কারণ, সরকারি অর্থের সুরক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন নয়—এটি জনগণের অর্থের জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষার বিষয়।
