বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরব লক্ষ্য করে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল শুক্রবার যে দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে, তা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ১১৭.৪৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে শনিবার এক পর্যায়ে তা ১১৬.৭২ ডলারে নেমে আসে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এই দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৩.২৭ ডলার। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।

এক বছর আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ৭৯.০২ শতাংশ। অন্যদিকে গত এক মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬৭.৯২ শতাংশ। তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

গত শুক্রবারের ভবিষ্যৎ চুক্তির দর অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরেই থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। এ বিষয়ে ‘খুব শিগগিরই’ কিছু একটা ঘটবে। ট্রাম্পের এ রহস্যজনক মন্তব্যের পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলে আবারও ইরানে হামলা জোরদার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিপরীতে ইরানের সেনাপ্রধান দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানান, তাঁদের সামরিক বাহিনী যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় শিগগিরই প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এ ছাড়া সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। হুতিদের চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি আরামকো তাদের কর্মীদের প্রধান কার্যালয় ছেড়ে যেতে বলেছে। তারা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্রে সরবরাহকারী একটি পাইপলাইনের ভাল্ভ বন্ধ করে দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। এতে হামাদা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৫০ হাজার ব্যারেল এবং তাহারা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *